আমার কথা বিশ্বাস করুন স্যার আমি সত্যি বলছি কালিগ্রামে আমি কালার টিভি চলতে দেখেছি 1965 সালে দাঁড়িয়ে পুলিশকে এই কথা বলেছিলেন বাসু বানুট নামের এই যুবক কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো ভারতবর্ষে কালার টিভির যুগ শুরু হয় 1982 সালে তাহলে তার 17 বছর আগে কেউ কি করে একটা গ্রামে কালার টিভি দেখতে পারে আর শুধু কালার টিভিই নয় এসটিডি বুথ থেকে বিদ্যুতের খুঁটি নিজের কাকার গ্রামে পৌঁছে সবকিছুই দেখতে পেয়েছিল বাসুভানোট আর জানতে পেরেছিল ওর কাকা নাকি 20 বছর আগেই মারা গেছে কিন্তু সেটা মাত্র একদিনের জন্য কারণ তার পরের দিন সে যখন এক গাদা পুলিশ নিয়ে ওই গ্রামে পৌঁছেছিল ততক্ষণে
ওই গ্রামের সমস্ত আধুনিক জিনিসপত্র যেন কোন এক আশ্চর্য মন্ত্র বলে উমে গেছিল আর বাসুর কাকাও দিব্য জ্যান্ত অবস্থায় হেঁটে চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল হ্যাঁ বিদেশের মাটিতে ঘটা প্যারালাল ইউনিভার্স কিংবা টাইম ট্রাভেলের ঘটনা তো আমরা অনেক শুনেছি কিন্তু খাস ভারতবর্ষের বুকে আজ থেকে 60 বছর আগে যে আশ্চর্য ঘটনাটা ঘটেছিল সে বিষয়ে আমরা খুব কম মানুষই জানি নমস্কার আমি সুজয় নিল পৃথিবীর বুকে মাঝেমধ্যে এমন কিছু আশ্চর্য ঘটনা ঘটে যার সঠিক উত্তর হয়তো কোনদিনই পাওয়া যায় না সাধারণ মানুষের এমন অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনলে বিশ্বাস করতে রাজি হন না শুধু যে বা যারা এই ঘটনাগুলোকে নিজের চোখের সামনে ঘটতে দেখে
তাদের মনে আজীবনের জন্য একটা জ্বলন্ত প্রশ্নচিহ্নের দাগ বসে যায় আজ থেকে প্রায় 60 বছর আগে ন্যাতলের বাসু ভানুটের সঙ্গে ঘটে যাওয়া গল্পটাও কিন্তু ঠিক এরকমই যেখানে একটা জমাট কুয়াশা ঘেরা পথ আজীবনের জন্য বদলে দিয়েছিল বাসু ভানুটের জীবন আজকের এই ভিডিওটাকে আপনি টাইম ট্রাভেলের গল্প বলতে পারেন আবার চাইলে এটাকে প্যারালাল ইউনিভার্সের তালিকাতেও ফেলতে পারেন কিন্তু ভিডিও শুরুর আগে একটা কথাই বলে দিতে চাই গল্পটাকে বিশ্বাস করবেন নাকি অবিশ্বাস করে উড়িয়ে দেবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনাদের হাতে আমি আজ শুধু বাসু বানানোটের সঙ্গে ঘটা গল্পটা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ভারতবর্ষের অন্যতম সুন্দর হিল স্টেশন নয়নিতাল বর্তমানে উত্তরাখন্ড রাজ্যের টুরিস্ট ডেস্টিনেশন
হলেও 1965 সাল নাগাত নৈনিতাল ছিল উত্তরপ্রদেশের অন্তর্গত তাই নৈনিতালেই একটা কাপড়ের দোকানে কাজ করতো 33 বছর বয়সী বাসু ভানট বাসুদেব দেশের বাড়ি ছিল নয়নিতাল থেকে প্রায় 97 কিলোমিটার দূরে সাতার আলী নামের একটা ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামে কিন্তু জীবিকার খোঁজে বাসুর বাবা নিজের পরিবার নিয়ে নয়নিতালে চলে আসেন ওদিকে সাতার আলী গ্রামে থেকে যান বাসুর কাকাসহ বাদবাকিরা বাসু নিজের কাকার বাড়িতে প্রত্যেক বছর একবার করে ঘুরতে আসতো 1964 সালের ডিসেম্বর মাসেও কাকার বাড়ি থেকে ঘুরে গেছিল বাসু কিন্তু বাসুর সঙ্গে এই ঘটনাটা ঘটে 1965 সালের অক্টোবর মাসে 1965 সালের 13ই অক্টোবর তারিখে কাজের জায়গা থেকে ছুটি নিয়ে নিজের কাকার বাড়ির
উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বাসু ঘটনাটা আজ থেকে প্রায় 60 বছর আগেকার তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই তখন উত্তরাখন্ডের রাস্তাঘাট একদমই উন্নত ছিল না নানিতাল থেকে ভোরবেলায় আলমোড়ার উদ্দেশ্যে একটা বাস ছাড়তো তাতে চেপে আলমোড়াতে নেমে সেখান থেকে প্রায় 34 35 km পাহাড়ী পথ ধরে হাঁটলে তবেই পৌঁছানো যেত সাতার আলীতে বাস্তু বরাবরই এই পথ দিয়ে কাকার বাড়িতে যাতায়াত করতো তাই 1965 সালের 13ই অক্টোবর ওই বাসে চেপেই আলমোড়াতে এসে নামে বাসু তখন সকাল প্রায় 8:30টা বাজে এই আলমোড়া থেকে সাতার আলী অব্দি হেঁটে যেতে প্রায় আট ঘন্টা সময় লাগে বাস থেকে নেমে একটু খাবার দাবার খেয়ে পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটা আরম্ভ করল
বাসু দু ঘন্টা একটানা হাঁটার পর খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে আবার বেলা 11:30 টার দিকে হাঁটতে শুরু করল সে এভাবেই খানিকটা হেঁটে একটু বিশ্রাম নিয়ে এগোতে এগোতে দুপুর গৌড়িয়ে গেল তখন বিকেল চারটে বাজে বাসু ততক্ষণে সাঁতার আলী থেকে আর মোটে পাঁচ কিলোমিটার মতো দূরে এমন সময় বাসু লক্ষ্য করল সামনে একটা বিরাট বড় কুয়াশার আস্তরণ জমাট বেড়েছে পথের উপরে আসলে উত্তরাখন্ডের পার্বত্য অঞ্চলে এমন জমাট কুয়াশা খুবই নরমাল একটা বিষয় মাঝেমধ্যেই এমন কুয়াশা জমে সেখানে আর মানুষজন এই কুয়াশার আস্তরণের মধ্যে দিয়েই আঁটাচলা করেন তাই বাসুও এই বিষয়টাকে পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে চলল কাকার বাড়ির দিকে তবে সেই কুয়াশার আস্তরণের
মধ্যে ঢোকার পর বাসু টের পেল খুব সামান্য মানে খুবই সামান্য মাত্রার ইলেকট্রিক শকের মতো কিছু একটা সে অনুভব করছে নিজের শরীরে তবে ওই কুয়াশা বেরোতেই সেটা ঠিক হয়ে গেল তাই বাসু বিষয়টাকে আর পাত্তা দিল না কিন্তু গ্রামের কাছে পৌঁছতেই সবচেয়ে বড় খটকাটা লাগলো বাসুর কারণ এই সাঁতার আলী গ্রামে ঢোকার আগে একটা ছোট্ট ঝিল মতো ছিল ছোটবেলা থেকেই গ্রামে ঢোকার আগে সেই ঝিলটা চোখে পড়তো বাসুর কিন্তু সেদিন সাঁতার আলীতে ঢোকার আগে কোন ঝিল চোখে পড়লো না বাসুর তখন বাসু ভাবলো হয়তো ঝিলের জল শুকিয়ে গেছে তাই সে আর বিশেষ গা করলো না বিষয়টা নিয়ে কিন্তু গ্রামে ঢোকার
যে রাস্তা সেটাই পৌঁছে আরো বড় চমকটা পেল বাসু সে দেখলো গ্রামের রাস্তায় পিচ হয়েছে বিদ্যুতের পুঁটি বসেছে মাত্র 10 মাসের ব্যবধানে গ্রামের এহানো উন্নতি দেখে প্রথমে খানিকটা চমকে গেলেও পরে বিষয়টা ভালো লাগলো বাসুর তাই সে এগোতে লাগলো কিন্তু এই পুরো বিষয়টার মধ্যে এমন কিছু একটা ঘটছিল যা ক্রমাগত বাসুর অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলছিল এই যেমন গ্রামের কাউকেই তেমন চেনা লাগছিল না বাসুর পাশাপাশি গোটা গ্রামের চেহারাটাই যেন কেমন বদলে গেছিল তাই তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে বাসু উপস্থিত হলো নিজের কাকার বাড়ির দরজায় কিন্তু এইবার বাসু যে 440 ভোল্টের ঝটকাটা খেল সেটার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না কাকার বাড়ির দরজায়
করা নাড়তেই এক সম্পূর্ণ অচেনা ব্যক্তি বেরিয়ে এলো এবার সেই লোকটা বাসুকে চিনতে পারলো না আর বাসুও বুঝতে পারলো না অচেনা লোকটা আসলে কে বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা অচেনা ব্যক্তিটিকে বাসু যখন তার পরিচয় জিজ্ঞেস করল সেই ব্যক্তিটি জানালো তিনি এই বাড়ির মালিক এবার বাসুর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার পালা সে ভয়ে চিৎকার করে ওই অচেনা ব্যক্তিটিকে বলল আপনি ইয়ারকি মারছেন নাকি এটা তো সতীশ বানটের বাড়ি আমার কাকা কোথায় বাসুকে এইভাবে চেচামেচি করতে দেখে ওই ভদ্রলোক রেগে গেলেন তাই তিনিও চিৎকার করে বললেন কে সাথী বানর এখানে কোন বানর ফানর থাকে না গত 20 বছর ধরে আমরা এখানে
আছি আপনি কে বলুন তো নেশা করে আছেন নাকি ভদ্রলোকের এই উত্তর শুনে বাসু হতভম্ব হয়ে গেল তাই সে তখন সরাসরি ছুটলো গ্রামের স্থানীয় বাজার এলাকায় সেখানে গিয়ে একটার পর একটা লোককে ধরে জিজ্ঞেস করল নিজের কাকার কথা কিন্তু কেউই সঠিক তথ্য দিতে পারলো না বাসুকে ঠিক তখনই একটা চায়ের দোকান দেখতে পেল বাসু সেখানে একজন বৃদ্ধ বসে আড্ডা দিচ্ছিল তাদের কাছে বাসু গিয়ে যখন নিজের কাকার কথা বলল তারা বলল আজ থেকে 25 30 বছর আগে বানররা এখানে থাকতো কিন্তু তারা তো একটা গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গেছিল এই একটা কথা শোনা মাত্র পায়ের তলার মাটি সরে গেল বাসুর আর
ঠিক তখনই বাসু লক্ষ্য করল ওই চায়ের দোকানে একটা টিভি চলছে যে টিভি সাদা কালো নয় রঙিন ছবি দেখাচ্ছে বাসু বুঝতে পারলো তার সঙ্গে কোন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে চলেছে তাই সে পরিমড়ি করে দৌড় দিল গ্রাম ছেড়ে কিন্তু ফেরার পথে ওই একই জায়গায় ঠিক আগের মতোই একটা জমাট কুয়াশা দেখতে পেল বাসু নিজেকে সামনে নিয়ে সে এক দৌড়ে পার করল ওই কুয়াশা ছাড়নো পথটা সেদিন পাগলের মত দৌড়োতে দৌড়োতে অবশেষে মাঝরাতে আলমোরায় এসে পৌঁছলো বাসু পরের দিন সকালের প্রথম বাস ধরে সে ফিরে এলো ন্যানিতালে আর তারপর ন্যাতল থেকে বাবা এবং দাদাকে সঙ্গে নিয়ে সে আবার পাড়ি দিল নিজের
গ্রাম সাতার আলীর জন্য তবে এবার গ্রামে ঢোকার আগে সে উপস্থিত হলো দোতিয়াল গাঁও থানায় সেখানে গিয়ে পুলিশকে সবটা খুলে বলল বাসু পুলিশও বাসুর কথা শুনে চমকে গেল তাই তারা পার্সোনাল গাড়ির ব্যবস্থা করে একটা গোটা টিন নিয়ে রওনা দিল সাতার আলীর উদ্দেশ্যে কিন্তু এবার গ্রামে ঢোকার আগে সেই আগের মতোই পুরনো ঝিলটা ঝুকে পড়লো বাসুর সে আরো চমকে উঠলো যখন সে দেখল গ্রামের মূল সড়কে তখনও মাটি ফেলা আর দূর-দূরান্ত অব্দি বিদ্যুতের খুঁটির কোন চিহ্ন নেই পুলিশের গাড়ি সোজা গিয়ে থামলো বাসুর কাকা সতিশ বানটের বাড়ির সামনে কিন্তু এবার দরজার কড়া নাড়তেই বহাল তবিয়তে বেরিয়ে এলেন বাসুর কাকা সতিশ
বানট তিনি খুব স্বাভাবিকভাবেই এত পুলিশ দেখে ঘাবড়ে গেলেন এদিকে পুলিশ অফিসাররাও অবাক কারণ বাসু তাদের যা যা বলে নিয়ে এসেছে সেই একটা কথাও মেলেনি কিন্তু বাসু নাছড় বান্দা সে তখন পুলিশদের নিয়ে ছুটলো বাজার এলাকার ওই চায়ের দোকানের খোঁজে তবে বাজার এলাকায় গিয়ে বাসু কি দেখলো জানেন ওই জায়গায় কোন চায়ের দোকানই নেই বদলে সেখানে তখন একটা টিউবল বসানোর কাজ চলছে হ্যাঁ ঠিক এতটাই চমকে দেওয়ার মতো দৃশ্য সেদিন দেখতে হয়েছিল বাসু বানটকে এবার আপনাদের হয়তো দুটো কথা মনে হতে পারে হয় বা বাসুর মাথায় গন্ডগোল ছিল আর নয়তো বাসু নেশা করতো তাহলে জানিয়ে রাখি জীবনে কোন প্রকার নেশা
করেনি বাসু আর সে সম্পূর্ণ সুস্থ সবল একটা ছেলে ছিল আর সেটা বাসুর গ্রামের লোকজনও কনফার্ম করেছিল পুলিশকে খুব স্বাভাবিকভাবেই বাসুর সঙ্গে ঘটা এই আশ্চর্য ঘটনাটা আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল উত্তরাখন্ডের ওই এলাকায় স্থানীয় সংবাদপত্র ছাপা হয় সেই খবর বাসুর দাবি ছিল ওই জমাট বাঁধা কুয়াশাটার মধ্যেই এমন কিছু একটা ছিল যা ওর 13ই অক্টোবরের সেই বিকেলটাকে পুরোপুরিভাবে বদলে দিয়েছিল বাসু ভানুটের এই আশ্চর্য কাহিনী নিয়ে সেই সময় দু ভাগে ভাগ হয়ে গেছিল দেশের মানুষ কেউ বলেছিল বাসুর বলো ওই কুয়াশাটা আদতে কোন প্যারালাল ইউনিভার্সে ঢোকার পোর্টাল ছিল সেই পোর্টালের মাধ্যমে বাসু এমন একটা গ্রামে পৌঁছেছিল যেখানে ওর কাকার বাড়িতে অন্য
কেউ থাকে এবং যে গ্রামটা আসলে সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিল আবার কেউ বলেছিল ওই কুয়াশাটার ভিতরে নাকি আদতে কোন টাইম লুপ তৈরি হয়েছিল যে লুপের মাধ্যমে বাসু পৌঁছে গেছিল ভবিষ্যতে আবার ফেরার সময় ওই লুপের মধ্যে দিয়ে ও ফেরত চলে এসেছিল 1965 সালে তবে অধিকাংশ লোকই বাসুর বলা এই কাহিনীর উপর ভর্ষা করতে চায়নি কারণ এই ধরনের ঘটনা নাকি বিদেশে বেশি হয় এদেশে এমন ঘটনা হতেই পারে না তবে কি হতে পারে আর কি হতে পারে না এই নিয়ে অনেক তর্ক অনেক আলোচনা চলবেই সত্যি সত্যি কি বাসুর কাকারা পরবর্তীকালে গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গেছিল এর উত্তরও পাওয়া যায়নি আজ অব্দি
কারণ মিডিয়া এই কেসের ফলোআপ নিয়ে আর কোন আগ্রহই দেখায়নি পরবর্তীকালে আজ শুধু বাসু বানানোটের নামটা রয়ে গেছে কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আর্টিকেল আর ইউটিউব ভিডিওর দৌলতে আর রয়ে গেছে বাসুর কাকার সেই সাতার আলী গ্রাম যদি কখনো উত্তরাখন্ডে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হয় আমি নিশ্চয়ই চেষ্টা করব এই গ্রামটা থেকে ঘুরে আসার আর তারপর না হয় আরো একটা ডিটেইলসের ভিডিও বানাবো বাসু বানরট কে নিয়ে আপাতত আজ এ পর্যন্তই থাক দেখা হবে নতুন কোন ভিডিওতে সকলে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন নমস্কার [মিউজিক]