অনেক অনেক [মিউজিক] বছর আগের কথা। বাগদাদের অদূরে এক জনপদ ছিল। নাম তার নাকলেস্তান। নামের মতই জায়গাটা খেজুর বাগান, শস্যক্ষেত, কুয়া আর ছোট ছোট মাটির বাড়িতে ভরা ছিল। সেই গ্রামে ছিলেন হাজী ওমর নামে এক সম্মানিত মানুষ। আল্লাহ তাকে হালাল উপার্জন, খ্যাতি আর দুই ছেলে দিয়ে দুনিয়ায় ইজ্জত দিয়েছিলেন। বড় ছেলে জাফরার ইবনে ওমর আর ছোট ছেলে সাবির ইবনে ওমর। দুই ভাই একই ঘরে বড় হলেও মনের দিক থেকে ছিল দুই মেরুর মানুষ। [মিউজিক] জাফারের চোখে ছিল দুনিয়ার চকচকে মোহ। সে সবসময় হিসাব করত [মিউজিক] কে কাকে ছাড়িয়ে গেল কার জমি কত কার ঘর কত বড় কোন দাওয়াতে কার সামনে
বসলে মর্যাদা বাড়ে আর সাবির ছিল একেবারে উল্টো সে কম বলতো বেশি কাজ করত অল্প খেয়ে শুকরিয়া আদায় করত কারো কষ্ট দেখলে নিজের ক্ষুধাও ভুলে যেত হাজী ওমর জীবিত [মিউজিক] থাকা পর্যন্ত দুই ভাইকে এক সুতই ধরে রেখেছিলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন শোনো সম্পদ যদি এক ভাইয়ের ঘরে বেশি যায় [মিউজিক] আর আরেক ভাইয়ের ঘরে কম যায় তবুও আত্মীয়তার হক যেন কমে না যায় কারণ টাকা ফুরায় কিন্তু রক্তের সম্পর্কের হিসাব কিয়ামতের দিনও থাকবে। কিন্তু মানুষ যতক্ষণ ছায়ার নিচে থাকে ততক্ষণ গাছের কদর বোঝে না। হাজী ওমার মারা যাওয়ার পর সেই ছায়া সরে গেল। আর ছায়া সরে যেতেই মানুষের ভেতরের আসল
রং বেরিয়ে এল। হাজী ওমর কিছু জমি, এক পুরনো [মিউজিক] দোতলা বাড়ি, একটা তেলের ঘানি, দুটো খেজুর বাগান আর কয়েকটা উট রেখে গিয়েছিলেন। শরীয়ত অনুযায়ী সম্পদ ভাগ হওয়ার কথা ছিল। [মিউজিক] গ্রামের ইমাম সাহেবও বলেছিলেন যে হকের অংশ যেমন আল্লাহ ঠিক করে দিয়েছেন তেমনি করেই ভাগ হবে। কিন্তু জাফারের মনে তখন অন্য আগুন। সে ভাবতে লাগলো এত বড় সম্পদ আমি সামলাবো [মিউজিক] আর সাবিরও সমান ভাগ নেবে। ও তো ব্যবসা বোঝে না লোকসান করবে। প্রথমে সে নরমভাবে কথা বলল। ছোট ভাইকে ডেকে বলল, দেখ সাবির তুমি সরল মানুষ। এই হিসাব নিকাশ, বাজার, লোকজন [মিউজিক] এসব তোমার দ্বারা হবে না। তুমি
আমার হাতেই সবকিছু থাকতে দাও। যখন যা দরকার আমি তোমাকে দেব। সাবির মাথা নিচু করে বলেছিল ভাই আপনি বড় আপনি যেমন ভালো বুঝেন কথাটা ছিল সম্মানের কিন্তু জাফার সেটাকে দুর্বলতা ভেবেছিল কিছুদিনের মধ্যেই [মিউজিক] বাড়ির ভালো অংশ উর্বর জমি খেজুর বাগান ঘানি [মিউজিক] সব নিজের নামে নিয়ে নিল সাবিরের ভাগে দিল গ্রামের প্রান্তে একটা ছোট ভাঙ্গা মাটির ঘর আর কাকর ভরা অনুর্বর এক টুকরো জমি যেখানে বছর গেলে ফসলের চেয়ে আগাছা [মিউজিক] বেশি জন্মাত। গ্রামের দু একজন মানুষ কষ্ট পেয়েছিল। [মিউজিক] কিন্তু সাবির কাউকে কিছু বলেনি। সে শুধু এক রাতে বাবার কবরের পাশে গিয়ে বসেছিল অনেকক্ষণ। তারপর আস্তে করে বলেছিল,
আব্বা আমি আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে জবান খুললাম না। আল্লাহ আছে। তিনি বিচারক। সেই রাতে বাতাসে খেজুর পাতার শব্দ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যেন কবরের নীরবতা সাবিরের সবরকে সাক্ষী করে রাখছে। কয়েক বছর কেটে গেল। জাফারের ভাগ্যে যেন দুনিয়ার সব দরজা [মিউজিক] খুলে গেল। সে নতুন বাড়ি তুলল। উঁচু দেয়াল খিলান ওয়ালা দরজা। মাঝখানে ফোয়ারা পাশে অতিথিশালা। তার উঠনে সারি [মিউজিক] সারি চাকর দাঁড়িয়ে থাকতো। রান্নাঘরে প্রতিদিন একসাথে এত হাড়ি চড়তো যেন ওখানে প্রতিদিনই উৎসব। বাজারে তার আলাদা আসন ছিল। ধনীরা সালাম দিত। [মিউজিক] দরিদ্ররা দূর থেকে তাকিয়ে থাকতো। আর সাবির সে কখনো কারো জমিতে মজুরি করত। কখনো কাঠ কেটে আনতো। কখনো
খেজুর শুকনোর কাজে হাত লাগাতো। কখনো দূরের বাজারে বস্তা বয়ে দিত। তার স্ত্রী খাদিজা ছিল ধৈর্যশীলা নারী। পুরনো কাপড় কেটে কেটে সেলাই করে সংসার চালাতো। খেজুর বিচি শুকিয়ে জ্বালানি বানাতো। মাটির চুলায় পাতলা রুটি বেক করত। তাদের একটি ছেলে ছিল ইয়াহিয়া। বাচ্চাটা অন্যদের মত খেলনায় বড় হয়নি। সে বড় হয়েছে বাবার কাঁধে বসে ক্ষেত দেখতে [গান গাওয়া] দেখতে। মায়ের কাছে কোরআনের ছোট ছোট সূরা শুনতে শুনতে। আর অভাবের মধ্যেও শুকরিয়া বলতে শিখতে শিখতে। সাবিরের ঘরে ধন ছিল না কিন্তু ঝগড়া ছিল না, শখ ছিল না কিন্তু হারামও ছিল না। রাতের অন্ধকারে যখন গ্রামের বড় বড় বাড়িতে প্রদীপ জ্বলতো সাবিরের ঘরে
হয়তো একটি মাত্র কুপিও টিমটিম করতো। কিন্তু সেই কুপির আলোতে কোরআনের আয়াত [মিউজিক] পড়া হতো। দু হাত তুলে দোয়া করা হতো। আর বলা হতো হে আল্লাহ অল্পে বরকত দাও। এক বছর আল্লাহর ইচ্ছায় জাফরের ঘরে বহু প্রতীক্ষিত এক ছেলে সন্তান জন্ম নিল। গ্রাম জুড়ে খবর ছড়িয়ে পড়ল। জাফরের তিন মেয়ে ছিল কিন্তু [মিউজিক] ছেলে হওয়াতে সে যেন আকাশে উঠে গেল। সে ঘোষণা দিল সাতদিন ধরে আনন্দ হবে। গরু জবাই হবে। শহর থেকে [মিউজিক] সুগন্ধি চাল আসবে। দূরের কবিয়াল ডাকা হবে। মেহমানদের জন্য আলাদা তাবু পড়বে। সেই আয়োজনকে সন্তানের আকিকার চেয়ে বেশি নিজের মর্যাদার প্রদর্শনী বানিয়ে ফেলল। গ্রামের ঘরে ঘরে খবর
গেল। ধনী, গরীব, আত্মীয় অনাত্মীয়, ব্যবসায়ী, আলেম, মোল্লা প্রায় সবাইকেই দাওয়াত পাঠানো হলো। কিন্তু এক জায়গায় দাওয়াত পৌঁছলো [মিউজিক] না। সাবিরের ছোট্ট কাঁচা ঘরে। সেদিন বিকেলে সাবির ক্ষেত থেকে ফিরছিল। পথে কয়েকজন লোক তাকে বলল, আরে সাবির তুমি এখনো ভাইয়ের বাড়ি গেলে না? শুনলাম আজ তো সেখানে খুব ধুমধাম [গান গাওয়া] ছেলে হয়েছে বড় আয়োজন কথাটা শুনে সাবির থেমে গেল তার কাঁধের বাঁশের লাঠিটা একটু কেঁপে উঠলো চোখে ক্ষনিকের বিশ্বায় ফুটে উঠলো তারপর সে জোর করে হেসে বলল হ্যাঁ কাজ ছিল এখনই যাব ইনশাআল্লাহ লোকেরা চলে [মিউজিক] গেলে তার হাসিটা মুছে গেল হাটতে হাঁটতে সে মনে মনে নিজেকে বোঝাতে লাগলো
হয়তো ভুলে গেছে এত বড় আয়োজন [মিউজিক] এত ব্যস্ততা বড় ভাই ইচ্ছে করে ডাকেনি এটা কি হতে পারে? মানুষ যখন সত্যি জানে তবুও হৃদয়কে কষ্ট থেকে বাঁচাতে অজুহাত খোঁজে। সাবিরও [মিউজিক] ঠিক তাই করল। বাড়ি ফিরে সে স্ত্রীকে খবরটি দিল। খাদিজা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, আপনাকে ডাকেনি, আমাকে ডাকেনি। এই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু আপনার ভাইয়ের ঘরে ছেলে [মিউজিক] হলো আর আপনি অন্যের মুখে শুনলেন এ কষ্টের কথা। সাবির নরম গলায় বলল, [মিউজিক] না ডাকলেও ভাই তো ভাই। খুশির দিনে গেলে হয়তো মন নরম হবে। ইয়াহিয়া তখন পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে শিশুশুলা আনন্দে বলল, আব্বা [মিউজিক] আমি কি আমার
নতুন চাচাতো ভাইকে দেখতে যাব? সাবির বুকে কাটা অনুভব করল। তবুও ছেলের মাথায় হাত রেখে বলল, যাব বাবা। ইনশাআল্লাহ যাব। কিন্তু যাওয়ার আগে একটা প্রশ্ন এসে দাঁড়ালো। খালি হাতে কি যাওয়া যায়? খাদিজা ঘরের চারদিকে তাকালো। তাদের ঘরে দেওয়ার মত নতুন কিছু ছিল না। তারপর সে কৌটোর ভেতর থেকে যত্ন করে রাখা একটা জিনিস বের করল। সেটা ছিল একখানা ছোট নরম কাপড়ের শিশুর চাদর। খাদিজা নিজের পুরনো কিন্তু পরিষ্কার কাপড় কেটে হাতে সুজ ফোটাতে ফোটাতে সেলাই করেছিল। [মিউজিক] চাদরের কোনায় সে সোনালী সুতো না পেয়ে হলুদের রঙে রাঙানো সুতো দিয়ে ছোট করে বিসমিল্লাহ লিখে দিয়েছিল। আরো ছিল সাবিরের বানানো খেজুর
কাঠের ছোট্ট দোয়া ফলক। [মিউজিক] যেটা শিশুর মাথার কাছে ঝুলিয়ে রাখা যায়। খাদিজা জিনিস দুটো সাবধানে গুছিয়ে দিল। বলল, এগুলো দামি নয়। কিন্তু হালাল আর ভালোবাসা দিয়ে বানানো। যদি নেন নিক না নিলে আল্লাহ দেখবেন। সাবির চুপচাপ মাথা নাড়লো। তার চোখ [মিউজিক] ভিজে উঠেছিল। দারিদ্র মানুষকে শুধু অভাবই করে না। ছোট করে দেয়। কিন্তু হালাল ভালোবাসা কোনদিন ছোট হয় না। জাফরের বাড়িতে পৌঁছে সাবির যেন অন্য জগতে চলে গেল। রঙিন কাপড় ঝলানো, তামার প্রদীপে আলো, সুগন্ধি, দামি খাবারের গন্ধ, [মিউজিক] মেহমানদের হাসাহাসি সব মিলিয়ে যেন ছোটখাট প্রাসাদীয় উৎসব। লোকজন সোনার পাত্রে উপহার নিয়ে এসেছে। কেউ শিশুর জন্য রুপার চামচ, [মিউজিক]
কেউ মখমলের জামা, কেউ দামি তাবিজ, কেউ খাঁটি আতর। আর এদিকে সাবিরের হাতে [মিউজিক] ছোট্ট কাপড়ের চাদর আর কাঠের দোয়া ফলক। সে কিছুক্ষণ উঠনের [মিউজিক] একপাশে দাঁড়িয়ে রইল। মনে হচ্ছিল নিজের উপস্থিতি যেন এখানে বেমানান। কিন্তু ছেলে ইয়াহিয়া খুব খুশি। সে বাবার আঙ্গুল ধরে টানছিল। আব্বা চলো না আমার ভাইকে দেখি। ঠিক তখনই কয়েকজন মেহমান [মিউজিক] সাবিরকে লক্ষ্য করল। তার সাদা মাটা কাপড়, পায়ের ধুলো, হাতে সাধারণ প্যাকেট সবকিছুই তাদের চোখে পড়ল। একজন ঠাট্টা ভরা গলায় জিজ্ঞেস করল, এই যে তুমি কে? এখানে কি কাজ? আরেকজন বলল, সম্ভবত কোন মজুর দেখো না কি অদ্ভুত উপহার এনেছে। কথাগুলো সাবিরের কানে গরম
শিষার মত ঢুকলো। সে এক মুহূর্ত ভাবলো, বলবে আমি এই বাড়ির কর্তার ভাই। কিন্তু কথাটা মুখে আনতে গিয়ে বুক [মিউজিক] কেঁপে উঠলো। কারণ অপমানের আশঙ্কা ছিল আর [মিউজিক] আত্মসম্মানও ছিল। ঠিক সেই সময় জাফর সেখানে এসে দাঁড়ালো। সে দূর থেকেই সব শুনছিল। মেহমানদের সামনে এসে সাবিরের দিকে তাকালো যেন অপরিচিত কাউকে দেখছে। তারপর ঠান্ডা গলায় বলল, ও আমাদের বাগানের দিকেন একজন পরিচিত লোক। মাঝে মাঝে কাজ করে। সাবিরের মুখ সাদা হয়ে গেল। ইয়াহিয়া [মিউজিক] বিস্ময়ে বাবার দিকে তাকালো। মেহমানরা হেসে উঠলো। কেউ বলল, থাই বলো। আমরা তো ভেবেছিলাম আত্মীয়। জাফর সাবিরের হাতের প্যাকেটের [মিউজিক] দিকে তাকিয়ে আবার বলল, এখানে এসব
আনতে হয় না। ঠিক আছে রেখে যাও। এখন ভিড় বাড়িও না। ভালোবাসা দিয়ে বানানো [মিউজিক] চাদর আর কাঠের ফলক হাতে নিয়ে সাবির দাঁড়িয়ে ছিল। তার মনে হলো যেন জিনিস দুটো নয়। তার নিজের ইজ্জতিই মানুষের সামনে নিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। সে আর কিছু বলল না। শুধু ছেলের হাত ধরল। ইয়াহি আস্তে করে বলল, আব্বা আমরা কি ভাইটাকে দেখবো না? [মিউজিক] সাবির ঠোট কামড়ে বলল, চলো বাবা পরে আসবো। সেই পরে আর কোনদিন আসেনি। ফেরার পথে আকাশটা অদ্ভুত নিস্তব্ধ ছিল। মনে হচ্ছিল চারদিক শুনে ফেলেছে মানুষে মানুষে করা জুলুমের শব্দ। ইয়াহিয়া হাঁটতে হাঁটতে আবার বলল, আব্বা বড় চাচা তোমাকে কাজের লোক বলল
কেন? একটি ছোট্ট শিশুর প্রশ্নের উত্তর কখনো কখনো পাহাড়ের মত ভারী হয়। সাবির হাঁটা থামালো। ছেলের মাথায় হাত রেখে অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর শুধু বলল, বাবা মানুষ যখন দুনিয়ার জিনিসে বড় হয়ে যায়। তখন অনেক সময় সত্যকে ছোট করে ফেলে। তুমি শুধু এতটুকু মনে রেখো। [মিউজিক] আল্লাহর কাছে মানুষ কাপড়, ঘর বা টাকার কারণে বড় হয় না। ইয়াহিয়া চুপ হয়ে গেল। আর সাবিরের চোখ ভিজে উঠলো। কিন্তু সে অস্ত্র মুছে ফেলল। কারণ কাঁদলেও ক্ষত কমে না। আর ধৈর্য [মিউজিক] ছাড়া মুমিনের আর কি আশ্রয়। বাড়ি ফিরে খাদিজা সব শুনে কেঁদে ফেলল। কিন্তু সাবির [মিউজিক] তাকে থামিয়ে দিল। কেঁদো না।
অপমান আমাদের ঘরে এসেছে। কিন্তু হারাম আসেনি। এটাই বড় কথা। আর আজকের ব্যথা যদি আমাদেরকে আল্লাহর কাছাকাছি [মিউজিক] নিয়ে যায় [গান গাওয়া] তাহলে এ ব্যথাও নেয়ামত। সেদিন রাতে খাবার ছিল শুধু দুটো শুকনো রুটি আর একটু নুন। [মিউজিক] তবুও খাওয়ার আগে সাবির দু হাত তুলে বলল, আলহামদুলিল্লাহ। খাদিজা সাবিরকে [মিউজিক] দেখল। বুঝলো গরীবের ঘরে যত কষ্টই থাকুক। যার অন্তরে আল্লাহর উপর ভরসা আছে সে পুরোপুরি [মিউজিক] ভাঙ্গে না। এরপরের কয়েক মাসে গ্রামে কঠিন সময় নেমে এল। বৃষ্টি কম হলো। কুয়ায় পানি কমে গেল। জমির ফলন অর্ধেক হয়ে গেল। মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। কিন্তু এই [মিউজিক] সময় মানুষের আসল চরিত্র স্পষ্ট
হয়ে উঠল। [গান গাওয়া] জাফরের বিশাল গোদামে পুরনো শস্য জমেছিল। [মিউজিক] সে চাইলে অনেক দরিদ্র পরিবারকে কিছুদিন সাহায্য করতে পারত। কিন্তু সে উল্টো দাম বাড়িয়ে দিল। যে শস্য গত মাসে এক মুদ্রায় দিত এখন দুই [মিউজিক] মুদ্রা না দিলে বের করতো না। একদিন একটি বিধবা তার দরজায় এসে বলল, হুজুর বাচ্চারা দুদিন কিছু খায়নি। একটু গম দিন পরে সোদ দেব। জাফর কপাল কুচকে বলল, এখানে সদগার দোকান খুলি নাকি? সোদ দিতে না পারলে এখনই সরে যাও। অথচ একই বিকেলে সাবির নিজের ঘরে ফিরে দেখল তার স্ত্রী এক পেয়ালা আটা রেখে দিয়েছে পরদিনের জন্য। দরজায় তখন এক মুসাফির এসে দাঁড়িয়েছে। খাদিজা
ফিসফিস করে বলল, এইটুকুই শেষ। সাবির বলল, শেষ হলে হোক। অতিথির লিজিক আল্লাহ পাঠান। আমাদেরটাও তিনিই দেবেন। সেদিন তারা নিজেদের ভাগের অর্ধেক রুটি মুসাফিরকে খাইয়ে দিল। ক্ষুধা কমলো না। কিন্তু মনে অদ্ভুত প্রশান্তি নামলো। সাবিরের একটা অভ্যাস ছিল। প্রতি জুমার বিকেলে সে তার বাবার কবর জিয়ারত করতে যেত। মাঝে মাঝে ইয়াহিয়াকেও সঙ্গে নিত। কবরস্থানটা গ্রামের বাইরে। এক সারি নিম গাছের পাশে ছোট ছোট টিলার মত কবর দিয়ে ভরা। সেখানে দাঁড়িয়ে সাবির ছেলেকে বলতো দেখো বাবা এখানে সবাই সমান কারো কবরের মাটি ধনী [মিউজিক] বলে উঁচু নয় আর গরীব বলে নিচু নয় কাল যে বাজারে দাম নিয়ে গলা উঁচু করছিল আজও
সে এখানেই কবর মানুষকে খুব বড় একটা শিক্ষা দেয় দুনিয়ার দম্ভের শেষ ঠিকানা মাটি ইয়াহিয়া মন দিয়ে শুনতো ছোট মানুষ কিন্তু চোখে গভীর প্রশ্ন সে একদিন জিজ্ঞেস করেছিল তাহলে বড় চাচাও একদিন এখানে আসবে। সাবির কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলেছিল, আমরা সবাই আসবো বাবা। কেউ আগে, কেউ পরে। তাই মানুষকে কষ্ট দেওয়ার আগে কবরের কথা মনে করা উচিত। এই কথাগুলো বাতাসে মিলিয়ে যায়নি। [মিউজিক] কারণ আল্লাহ যখন কাউকে শিক্ষা দেন তখন অনেক আগেই [মিউজিক] তার শব্দ তার দৃশ্য তার ইশারা মানুষের চারপাশে ছড়িয়ে দিতে থাকেন। এরই মধ্যে একদিন জাফরের ছেলে বাসার যে তখন আট ন বছরের উঠন থেকে খেলতে খেলতে বেরিয়ে
যায়। সন্ধ্যার আগে খবর এলো [মিউজিক] ছেলেটা বাগানের পাশের পরিত্যক্ত কুয়ার দিকে গেছে। জাফরের বাড়িতে হাহাকার শুরু হয়ে গেল। চাকররা ছুটলো মশাল জাল। সবাই খোঁজ করতে লাগলো। গ্রামের লোকজনও বেরোলো। সাবির তখন অন্যের ক্ষেত থেকে ফিরছিল। খবর শুনে সে ছুটে গেল। কুয়ার কাছে গিয়ে শুনতে পেল নিচ থেকে শিশুর কান্নার শব্দ। কুয়ার মুখ ভাঙ্গা চারপাশ পিচ্ছিল। কেউ নামতে সাহস করছে না। জাফর দূর থেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে। যে আমার ছেলেকে তুলবে আমি তাকে পুরস্কার দেব। কিন্তু মৃত্যু ভয় মানুষের পা বেঁধে দেয়। সাবির এক মুহূর্তেও দেরি করল না। সে বলল, দড়ি আনো। দড়ি [মিউজিক] বেঁধে সে নিজেই কুয়ায় নামল। অনেক
কষ্টে কাঁদতে থাকা বাসারকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে উপরে উঠিয়ে আনলো। ছেলে বেঁচে গেল। জাফরের স্ত্রী ছেলেকে জড়িয়ে কাঁদতে লাগলো। জাফর এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ালো। তার সামনে তার সেই ছোট ভাই যাকে সে মেহমানদের সামনে অপমান করেছিল আজ নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তার ছেলেকে তুলে এনেছে মানুষ ভাবলো এবার হয়তো জাফরের মন নরম হবে কিন্তু অহংকার খুব শক্ত রোগ প্রথম ধাক্কায় সেটি নড়ে কিন্তু সহজে বের হয় না জাফর শুধু বলল ভালো করেছো যাও পরে দেখে নেব পরে বলতে সে ছোট এক থলি মুদ্রা [মিউজিক] পাঠিয়েছিল সাবির সেটা ফিরিয়ে দিয়েছিল বলেছিল ভাইয়ের ছেলে ভাই বাঁচিয়েছে এর দাম নেওয়া
যায় না। [মিউজিক] থলি ফিরে এল কিন্তু জাফরের হৃদয়ে ফিরলো না। শীত নামার পর সাবিরের শরীর খারাপ হতে শুরু করল। কুয়ায় নামার পর ঠান্ডা পানি আর রাতের হাওয়ায় তার বুকে ব্যথা ধরেছিল। প্রথমে সে পাত্তা দেয়নি। গরীব মানুষের অসুখ গরীব চুপচাপ থাকে যতক্ষণ না শরীর ভেঙে পড়ে। কিন্তু দিন দিন কাশি বাড়লো। জ্বর এল শরীর শুকিয়ে গেল। তবুও সে কাজ ঝাড়ল না। কারণ কাজ বন্ধ মানেই হাড়ি বন্ধ। একদিন খাদিজা ভোরে দেখল [মিউজিক] সাবির নামাজে দাঁড়াতে গিয়ে দেওয়াল ধরেছে। তার চোখে পানি চলে এলো। সে বলল, আপনি আর কাজে যাবেন না। আমি কারো বাড়ির সেলাইয়ের [মিউজিক] কাজ নেব। সাবির মৃদু
হেসে বলল, তুমি তো আগেই নাও। আর আমি শুয়ে থাকলে ছেলেটা কি শিখবে? কিন্তু সেদিনই সে মাঠে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ল। গ্রামের কয়েকজন তাকে বাড়ি পৌঁছে দিল। ইমাম সাহেব এসে দেখে বললেন, ভালো হাকিম দেখাতে হবে। কিন্তু ভালো হাকিম মানে টাকা। আর টাকার কথা উঠতেই ঘরের নিস্তব্ধতা আরো ভারী হয়ে গেল। অবশেষে খাদিজা সাহস করে জাফরের বাড়িতে গেল। এত বছর অপমান সয়ে থেকেও সে শুধু এই আশায় গেল যে অসুখের সময় হয়তো ভাই ভাইকে ফিরিয়ে দেবে না। দরজায় [মিউজিক] দাঁড়িয়ে এসে বলল, ভাইজান সাবিরের খুব কষ্ট। একটু সাহায্য দরকার। হাকিম দেখাতে হবে। জাফর তখন হিসাবের খাতা দেখছিল। চোখ তুলেও ভালো
করে তাকালো না। বলল, আমারও এখন খরচ অনেক। আর সবাই কি অসুখ হলেই আমার কাছে আসবে? খাদিজা কাঁপা গলায় [মিউজিক] বলল আমি ভিক্ষা চাইতে আসিনি ধার দিন কাজ করে সোদ দেব জাফর বিরক্ত হয়ে উঠলো যে মানুষ নিজের সংসার চালাতে পারে না সে ধার সোধ দেবে কি দিয়ে যাও এখন সময় নেই খাদিজা আর কিছু বলল না তার চোখ দিয়ে অশ্রু পড়ছিল সে ফিরে আসছিল আর পেছনে মেহমানখানার [মিউজিক] চাকরদের ফিসফিস শব্দ উঠছিল দরজাটা যেভাবে তার মুখের সামনে বন্ধ হলো তাতে সে বুঝল শুধু দরজা নয় রক্তের সম্পর্ক অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরে খাদিজা কিছু লুকাতে পারলো না।
সাবির বুঝে গেল সব। কিন্তু আশ্চর্যের [মিউজিক] বিষয় তার মুখে কোন রাগ এলো না। সে শুধু স্ত্রীর হাত ধরে বলল, খাদিজা কখনো আমার ভাইয়ের জন্য বদদোয়া করবে না। আল্লাহ যদি চান তাকে শিক্ষা দেবেন। আর যদি [মিউজিক] না চান তাহলে আমাদের বদদোয়াতেও লাভ নেই।" খাদিজা ফুপিয়ে উঠলো। মানুষ এত জুলুম করে আপনি তবুও তার জন্য [মিউজিক] ভালো চান ? সাবির শান্ত গলায় বলল হ্যাঁ কারণ আমি [মিউজিক] চাই না কেয়ামতের দিন তার জুলুমের বোঝা নিয়ে সে দাঁড়া আর আমার মনে তার জন্য আগুন জ্বলুক আমি যদি [মিউজিক] মাফ করতে পারি হয়তো আল্লাহ আমাকেও মাফ করবেন সেই রাতে সাবির তার ছেলেকে
ডেকে নিল ইয়াহিয়া বাবার মাথার [মিউজিক] পাশে বসেছিল ছোট ছেলেটা বুঝে গেছে বাড়ির ভেতর কিছু বড় কষ্ট নেমে এসেছে সাবির তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল বাবা মন দিয়ে শোনো নামাজ কখন খন ছেড়ে দেবে না। কোরআন ধরে রাখবে। মাকে কষ্ট দেবে না। আর বড় চাচার জন্য কখনো মনে ঘৃণা রেখো না। ইয়াহিয়া বিশ্বয় বলল, যিনি আপনাকে কষ্ট দিলেন [মিউজিক] তাকে আমি কেন ঘৃণা করবো না? সাবির চোখ বন্ধ করল। হয়তো বুকের ব্যথা বাড়ছিল। তারপর বলল, কারণ ঘৃণা আগুনের মত। আগে নিজের বুকই পোড়ায়। আর মনে রেখো মানুষের বিচার দুনিয়ায় পুরো হয় না। কবর আর আখিরাতের বিচার সবচেয়ে নিখুত। তারপর সে
খাদিজাকে ইশারায় এক টুকরো কাগজ আনতে বলল। কাঁপা হাতে কিছু লিখল। কাগজটা ভাজ করে বলল, আমি যদি না থাকি আর যদি কোনদিন তোমাদের বড় চাচা আমার কবরের পাশে আসে তখন এটা তাকে দেবে। এর আগে নয়। খাদিজার বুক ফেটে যাচ্ছিল। সে কাগজটা বুকে চেপে [মিউজিক] রাখল। দুদিন পর ফজরের আগ মুহূর্তে সাবিরের অবস্থা খুব খারাপ হলো। বাইরে ঠান্ডা হাওয়া বইছে। কুয়াসা জমেছে। দূরে মসজিদ থেকে আযানের [মিউজিক] প্রথম ধ্বনি উঠলো। আল্লাহু আকবার। সাবির অনেক কষ্টে অযু করল। বসে বসে নামাজ পড়ল। তারপর দু হাত তুলে খুব আস্তে দোয়া করতে লাগলো। খাদিজা শুধু কিছু শব্দ শুনতে পেল। হে আল্লাহ আমার ভাইকে
হেদায়াত দাও। আমার ছেলেকে দ্বীনের উপর রাখো। আমার এই অল্প সবর কবুল করো। তারপর তার ঠোট নড়লো যেন কালিমা পড়ছে। আর একটু পরেই ঘরে এমন নীরবতা নেমে এল যেটা চিরবিদায়ের নীরবতা। খাদিজা চিৎকার [মিউজিক] করে উঠলো না। সে কেঁদে উঠলো কিন্তু শব্দ আটকে রাখল। কারণ দরিদ্রের কান্নাও অনেক সময় নিঃশব্দ হয়। ইয়াহিয়া বাবার হাত ধরে ডাকতে লাগলো, আব্বা আব্বা। কিন্তু মানুষ যখন মাটির সফরে রওনা দেয় তখন তাকে আর দুনিয়ার কোন ডাক ফেরাতে পারে না। সাবিরের মৃত্যুর খবর পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল। মানুষজন বলতে লাগলো আহা কি সৎ মানুষ ছিল। কাউকে কষ্ট দিয়েছে শুনিনি। নিজে [মিউজিক] না খেয়ে অন্যকে খাইয়েছে।
অনেকেই জানাজায় আসার জন্য প্রস্তুত হলো। কবর খোড়া শুরু হলো। তার বাবার কবরের পাশেই যেমন সে চেয়েছিল। [মিউজিক] কবরখানার খাদেম বুড়ো আবু সালেহ নিজের হাতে মাটি কাটছিল। সে বলছিল, সৎ মানুষের জন্য মাটি নরম হয়। অন্যদিকে জাফরের বাড়িতে [মিউজিক] খবর পৌঁছেতেই অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে এল। জাফরের স্ত্রী আস্তে করে বলল, তোমার ভাই মারা গেছে। জাফর কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। যেন কথা বুঝতে সময় লাগছে। তারপর মুখ খুরিয়ে বলল, ইন্নালিল্লাহ। [মিউজিক] কিন্তু কথাটা মুখ থেকে বের হলেও হৃদয়ে নামলো না। সে উঠে আবার বসে পড়ল। কি করবে বুঝতে পারছিল না। তার [মিউজিক] ছেলে বাসার এসে দাঁড়ালো। সে কাঁদছিল। বলল,
আব্বা চাচা না থাকলে [মিউজিক] আমি তো কুয়াতেই মারা যেতাম। আমরা জানাজায় যাবো না। এই কথাটা জাফরের বুকে প্রথম মাসল আঘাত করল। সে ছেলের চোখের দিকে তাকাতে পারল না। অনেকক্ষণ পর ধীরে ধীরে বলল, চলো জানাজার দিন [মিউজিক] আকাশ মেঘলা ছিল। গ্রামের মানুষ দলে দলে আসছিল। সাবিরের ঘরের সামনে সাদা কাপড়ে মোড়ানো লাশ রাখা হয়েছিল। তার মুখখানা দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু যারা তাকে জীবিত দেখেছে তাদের সবার চোখে এক ছবিই ভাসছিল। কষ্টে শুকিয়ে যাওয়া মুখ। পরিশ্রমে শব্দ হয়ে যাওয়া হাত। আর তবুও মুখে ধৈর্যের আলো। ইমাম সাহেব জানাজার আগে লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন ভাইয়েরা মৃতের জন্য দোয়া করুন। আর যদি তার
কোন হক কারো কাছে থেকে থাকে আজ মনে করুন। কারণ কবরের [মিউজিক] সফর একা। জাফর পেছনে দাঁড়িয়েছিল। কেউ তার দিকে সরাসরি তাকাচ্ছিল না। কিন্তু সে অনুভব করছিল সবাই জানে। সবাই জানে এই মৃত মানুষটিকে সে কেমন ব্যবহার করেছে। তার বুকের ভেতর চাপা অস্বস্তি বাড়ছিল। তবুও অহংকারের শেষ পরটা তখনো পুরো ভাঙ্গেনি। জানাজা পড়া হলো। আল্লাহুম্মাগফিরলাহু ধ্বনি উঠলো। সবার সাথে জাফরও হাত তুলল। কিন্তু তার হাতে [মিউজিক] কাঁপনী ছিল। জানাজা শেষে লাশ কাঁধে তোলা হল। একসময় লাশের এক কোনা [মিউজিক] জাফরের কাঁধেও এল। সেই ওজন খুব বেশি ছিল না। কিন্তু তার মনে হচ্ছিল যেন বছরের পর বছর জমে [মিউজিক] থাকা সব
অন্যায়ের ভার তার কাঁধে চাপানো হয়েছে। কবরস্থানে পৌঁছে লাশ নামানো হলো। বাতাস ঠান্ডা ছিল আর নিমপাতা [মিউজিক] ঝরছিল আস্তে আস্তে। সাবিরের কবর প্রস্তুত। তার বাবার কবর ঠিক পাশে। মনে হচ্ছিল পৃথিবীর বুকে যেখানে [মিউজিক] মানুষদের মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল মাটির নিচে সেখানে আবার বাবা ছেলেকে পাশাপাশি শুইয়ে দেওয়া হবে। লাশ কবরে নামানোর [মিউজিক] আগে আবু সালে বলল যার শেষ দেখা আছে দেখে নিন। কাপড়ের ভাজ একটু সরে গেলে সাবিরের [মিউজিক] মুখখানা সামান্য দেখা গেল। মৃত্যুর পর মানুষের মুখে এক ধরনের আশ্চর্য [মিউজিক] প্রশান্তি আসে। সাবিরের মুখেও সেটাই ছিল। জাফর তাকিয়ে রইল। তার মনে পড়ে গেল। এই মুখটাই একদিন শৈশবে তার
সঙ্গে খেজুর বাগানে দৌড়াতো। বাবার কাছে একসাথে বসে রুটি খেত। জ্বর এলে তার কপালে ভেজা কাপড় লাগতো। আর এই মুখকেই সে মানুষের সামনে অস্বীকার করেছিল। লাশ কবরে নামানো হল। মাটি দেওয়ার [মিউজিক] প্রস্তুতি চলছে। ঠিক তখন খাদিজা সবার সামনে আস্তে করে ইয়াহিয়ার [মিউজিক] হাতে একটা ভাজ করা কাগজ দিল। ইয়াহিয়া কেঁদে কেঁদে জাফরের সামনে এসে দাঁড়ালো। তার ছোট্ট গলায় কাঁপোনি। তবুও কথা স্পষ্ট। আব্বা বলেছিলেন, [মিউজিক] আপনি যদি কোনদিন তার কবরের পাশে আসেন তখন এটা দিতে। জাফরের হাত কেঁপে উঠলো। সে কাগজটা নিল। চারপাশ নিস্তব্ধ। শুধু বাতাসের শব্দ। সে কাগজ খুলল। কাগজে কাঁপা হাতে লেখা ছিল ভাই জাফর। যদি তুমি
এই চিঠি পড়ো তাহলে [মিউজিক] বুঝবো আমি মাটির ঘরে চলে গেছি। আর তুমি এখনো [মিউজিক] দুনিয়ার ঘরে আছো। আমি দুনিয়ায় তোমার বিরুদ্ধে বিচার চাইনি কারণ আমি ভেবেছি আল্লাহর আদালত সবচেয়ে [মিউজিক] ন্যায়বিচারকারী তুমি আমাকে যে কষ্ট দিয়েছো আমি তা আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা নিয়ে সহ্য করেছি আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম কিন্তু আমার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনটি কথা মনে রেখো এক [মিউজিক] কবরের মাটি ধনী গরীব চেনে না দুই কাফনের কাপড়ে কোন পকেট থাকে না তিন যে ভাই ভাই নিজের ভাইয়ের হক মেরে খায় তার হিসাব খুব ভারী। যদি পারো আল্লাহর কাছে তওবা [মিউজিক] করো। আমার স্ত্রী সন্তানকে আপনার দয়া
নয় তাদের হক দিও। আর কখনো কোন গরীব মানুষকে অপমান করো না। তোমার ছোট ভাই সাবির [গান গাওয়া] চিঠি পড়তে পড়তে জাফরের [মিউজিক] চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। শেষ লাইনটা পড়তে গিয়ে তার হাত কেঁপি উঠলো। কাগজটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। এতদিন সে ভেবেছিল ক্ষমতা মানেই শক্তি, ধন মানেই মর্যাদা। কিন্তু আজ একটা [মিউজিক] কবরের সামনে দাঁড়িয়ে সে বুঝলো যে মানুষটা সারাজীবন তার জুলুম সহ্য করে গেল সেই মানুষই মৃত্যুর পরও তাকে [মিউজিক] মাফ করে দিল। জাফর হঠাৎ কাঁদতে শুরু করল। প্রথমে চাপা তারপর ফুপিয়ে তারপর শিশুর মত। গ্রামের মানুষ বিশ্বয় তাকিয়ে রইল। তার হাঁটু ভেঙে মাটিতে বসে পড়ল। সে কবরের হাত
রেখে বলল, ভাই আমাকে মাফ করে দে। আমি অন্ধ ছিলাম। আমি দুনিয়াকে সবকিছু ভেবেছিলাম। আমি তোকে চিনিনি। আমি তোকে চিনিনি। কবরখানার খাদেম আবু সালে এগিয়ে এসে ধীরে বলল, আজ বুঝলে জাফর সাহেব। কবরের মাটি মানুষের উপাধি ধরে না। এখানে রাজাও আসে মজুরও আসে। শুধু আমল যায় আর যায় মানুষের জন্য করা জুলমের বোঝা। আপনি জীবনে প্রথমবার সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে [মিউজিক] আছেন মাটির সামনে সত্যের সামনে। ইমাম সাহেবও বললেন, মৃত মানুষ আমাদের সবচেয়ে বড় উপদেশ দিয়ে যায়। এই উপদেশ [মিউজিক] যারা জীবিত অবস্থায় নেয় তারাই [গান গাওয়া] বুদ্ধিমান। জাফর তখন মুঠো মুঠো মাটি তুলে ভাইয়ের কবরে দিচ্ছিল। [মিউজিক] তার দামি পোশাক
মাটিতে মাখামাখি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সে খেয়ালও করছিল না। তার মনে হচ্ছিল এতদিন সে উঁচু প্রাসাদ বানিয়েছে। অথচ আসল আশ্রয় যে এই মাটির নিচে সেটা সে কোনদিন ভাবেনি। মাটি দেওয়া শেষ হলে লোকজন সরে যেতে লাগল। কিন্তু জাফর সরে গেল না। সে বসে রইল। নিমপাতা পড়ছিল। কবরের [মিউজিক] মাটি ভিজেছিল। আর তার বুকের ভেতর ভেঙে পড়ছিল। বছরের পর [মিউজিক] বছর জমে থাকা অহংকারের প্রাসাদ। সেদিন সন্ধ্যায় জাফর বাড়ি ফিরে প্রথমবার নিজের ঘরকে [মিউজিক] অচেনা মনে হলো। দেওয়ালের সাজ্জা, দামি কারো কাজ, ঝুলন্ত পর্দা সবকিছুই হঠাৎ অর্থহীন লাগছিল। সে ছেলের দিকে তাকালো। বাসার চুপচাপ বসেছিল। জাফর তাকে কোলে টেনে নিয়ে বলল,
বাবা আজ আমি খুব বড় ভুল বুঝেছি। বাসার সরল গলায় বলল, চাচা ভালো মানুষ ছিল। আব্বা এই ছোট্ট বাক্যটা যেন জাফরের বুকের ভেতর আবার কাঁটা হয়ে বিধলো। সে ভাবতে [মিউজিক] লাগলো তার ছেলে যাকে সে দামি জামা খেলনা শিক্ষক [মিউজিক] সব দিয়েছে। সেই ছেলে আজ তার চেয়ে ভালোভাবে একজন মানুষের মূল্য বুঝেছে। রাত গভীর হলে জাফর ঘুমাতে পারলো না। সে বারবার ভাইয়ের চিঠি পড়ল। তাদের দয়া নয় তাদের হক দিও। লাইনটা তাকে ছেড়ে দিচ্ছিল না। সে হিসাবের খাতা খুলল। তারপর একে একে বাবার পুরনো কাগজ বের করল। মনে পড়লো কিভাবে সে ছোট ভাইয়ের অংশ আটকে রেখেছিল। কিভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময়
পার করে দিয়েছিল। কিভাবে নিজের সুবিধার জন্য শরীয়তের হকও অস্বীকার করেছিল। প্রথমবার তার [মিউজিক] মনে হলো সে শুধু ভাইয়ের প্রতি নয় আল্লাহর বিধানের প্রতিও জুলুম করেছে। সেই রাতেই [গান গাওয়া][মিউজিক] সে সিজদায় পড়ে গেল। দীর্ঘ সময় কাঁদলো বলল হে আল্লাহ আমি গুনাহগার আমি মানুষকে কষ্ট দিয়েছি হক মেরেছি অহংকার করেছি তুমি যদি আজ আমাকে না বদলাও আমি শেষ পরদিন ফজরের পর গ্রামের লোকজন এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখল জাফর নিজে সাবিরের ছোট ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে তার সঙ্গে না [মিউজিক] ছিল চাকর না ছিল দম্ভ শুধু মাথা নিচু করা এক মানুষ খাদিয়া দরজায় এল জাফর তাকে দেখে কেঁদে ফেলল। বলল, ভাবী
আমাকে ক্ষমা করুন। আমি দয়া করতে আসিনি। আমি হক ফিরিয়ে দিতে এসেছি। খাদিজা কিছু বলল না। তার চোখে অশ্রু জমে উঠলো। সে এত কষ্ট পেয়েছে যে ক্ষমার ভাষাও তৎক্ষণাৎ খুঁজে পেল না। জাফর গ্রামের ইমাম মুয়াজ্জিন কয়েকজন বয়জষ্ঠকে ডাকল। সবার সামনে ঘোষণা দিল। আমার বাবার সম্পদে সাবিরের যত অংশ [মিউজিক] ছিল সব হিসেব করে আজই তার স্ত্রী সন্তানের নামে লিখে দিচ্ছি। শুধু তাই নয় যত বছর আমি তাদের হক আটকে রেখেছি সেই হিসেবও আলাদা করে দেব। [মিউজিক] গ্রামের লোকজন অবাক। কেউ কেউ চোখ মুচছিল। কারণ মানুষ যে বদলাতে পারে এটা সবাই জানে। কিন্তু বাস্তবে কম দেখে। জাফর আরো বলল যাদের
কাছ থেকে আমি কঠোরতা করেছি অতিরিক্ত দাম নিয়েছি শ্রমের ন্যাজ্য মূল্য দিইনি তারা আসুন আমি হিসেব মিটাতে চাই একসময় যে মানুষ নিজের সম্মান বাঁচাতে ভাইকে অস্বীকার করেছিল [গান গাওয়া] আজ সেই মানুষ [মিউজিক] লোকসমক্ষে নিজের অন্যায় স্বীকার করছে এটা সহজ ছিল না কিন্তু সত্যিকারের তওবা কখনো সহজ হয় না পরবর্তী মাসগুলোতে নাকলিস্তানের মানুষ জাফরের ভেতরের বদল চোখে দেখল। সে গোদামের দরজা খুলে দিল দরিদ্রদের জন্য। শস্য বিক্রি করত ন্যাজ্য দামে। অনেককে বিনা [মিউজিক] দামে দিত। ঋণের কাগজ ছিড়ে ফেলল। কয়েকজন শ্রমিক যাদের সে বছরের পর বছর ঠকিয়েছিল তাদের পাওনা শোধ করল। বাজারে কেউ সাহায্য [মিউজিক] চাইলে আর মুখ ফিরিয়ে নিত
না। রাস্তার পাশে ভিক্ষুককে তুচ্ছ করতো না। মসজিদের কুয় ভেঙে গেলে নিজে খরচ দিল। কিন্তু নাম লিখিয়ে নয় চুপচাপ। তবে সবচেয়ে আশ্চর্য ছিল প্রতি জুমার বিকেলে তাকে এক জায়গায় দেখা যেত। সে যেত কবরস্থানে। তার ভাই সাবিরের [মিউজিক] কবরের পাশে। অনেকক্ষণ বসে থাকতো। কখনো কুরআন পড়তো, কখনো কাঁদতো, কখনো শুধু মাটির দিকে তাকিয়ে থাকতো। [মিউজিক] একদিন তার ছেলে বাসার জিজ্ঞেস করল, আব্বা আপনি এখানে এসে কি ভাবেন? জাফর [মিউজিক] বলল, আমি ভাবি মানুষ কত ভুল জিনিস নিয়ে গর্ব করে। আমি ভাবি তোমার চাচা কাঁচা [মিউজিক] ঘরে থেকেও আমার চেয়ে অনেক বড় ছিল। আমি ভাবি একদিন আমাকেও এই মাটির [মিউজিক] নিচে
যেতে হবে। আর তখন আমার সঙ্গে যাবে না আমার সোনা না আমার বাড়ি যাবে শুধু আমল আর মানুষের হক বাসার চুপচাপ শুনল তার শিশু মনেও কথা ঢুকে গেল মানুষের পরিবর্তন [মিউজিক] শুধু তাকে বদলায় না তার পরের প্রজন্মকেও বদলায় সময়ের সাথে সাথে জাফরের ঘরের আভিজাত্য কমেনি [মিউজিক] কিন্তু তার ভেতরের ভাষা বদলে গেল আগে সে বলতো এটা আমার এখন বলত আল্লাহর তার আমানত। আগে গরীবকে [মিউজিক] দেখতো বোঝা মনে করে। এখন বলতো আজ আমি যা দিচ্ছি কাল আমিও এর মুখাপেক্ষী [মিউজিক] হতে পারি। আগে লোকসম্মান চেয়েছিল। এখন লুকিয়ে সাওয়াব চাইতো। একদিন গ্রামের [মিউজিক] এক বৃদ্ধ তাকে বলল, জাফর তোমার এই
বদল কিভাবে এলো? সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, একটা কবর আমাকে [মিউজিক] শিক্ষা দিয়েছে। জীবিত ভাইকে আমি চিনিনি। মৃত ভাই আমাকে চিনিয়ে দিয়েছে আমি আসলে কে [মিউজিক] বৃদ্ধ বলল মানুষ যদি কবরের শিক্ষা জীবিত অবস্থায় নেয় তবে সে সৌভাগ্যবান জাফর মাথা নাড়লো তার চোখ আবার ভিজে উঠল কয়েক বছর পর নাখলিস্তানের লোকেরা যখন জাফরের কথা বলতো [গান গাওয়া] তখন তারা [মিউজিক] আগের জাফরকে নয় বদলে যাওয়া জাফরকে মনে করতো কিন্তু জাফর নিজে [মিউজিক] কখনো অতীত ভুলে থাকেনি সে জানত মানুষ বদলালেই [মিউজিক] অতীত মুছে যায় না। তবে তওবা করলে আল্লাহ অতীতের কালো দাগকে ক্ষমার আলোয়ে ঢেকে দিতে পারেন। সাবিরের ছেলে ইয়াহিয়াকে
[মিউজিক] সে নিজের সন্তানের মত লালন করল। তবে দয়ার ভঙ্গিতে নয়, হকের ভঙ্গিতে, সম্মানের ভঙ্গিতে। তাকে মাদ্রাসায় [মিউজিক] পাঠালো। জমির দেখাশোনা শিখালো। বাবার কথা বলল। আর প্রতিবছর সাবিরের মৃত্যু [মিউজিক] দিবসে সে বাড়িতে নীরবে খাবার রান্না করিয়ে গরীবদের খাওয়াতো। [মিউজিক] কেউ কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতো একজন মানুষের জন্য যিনি আমাকে বেঁচে থাকতে শিক্ষা দিতে পারেননি। [মিউজিক] কিন্তু মৃত্যুর পরও আমাকে পথ দেখিয়ে গেছেন। খাদিজা একদিন বলেছিল, [মিউজিক] আপনি যদি এই শিক্ষা সাবির বেঁচে থাকতে নিতেন, জাফর মাথা নিচু করে উত্তর দিয়েছিল, তাহলে হয়তো আমার তওবা আরো সুন্দর হতো। কিন্তু মানুষ অনেক সময় [মিউজিক] সবচেয়ে দামি জিনিস হারিয়ে ফেলেই তার মূল্য
বোঝে। প্রিয় দর্শক, এই গল্পে গরীব ভাইয়ের ঘর ছোট ছিল। কিন্তু তার বুক [মিউজিক] বড় ছিল। [গান গাওয়া] বড়লোক ভাইয়ের ঘর বড় ছিল কিন্তু তার হৃদয় সংকীর্ণ ছিল। এক ভাইয়ের কপালে ঘাম ছিল। অন্য ভাইয়ের গলায় [মিউজিক] অহংকার ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে জিতল? যে [মিউজিক] দুনিয়ার চোখে বড় ছিল সে নয়। যে আল্লাহর চোখে ছোট হতে রাজি হয়নি সেই জিতল। কবরের মাটি সাবিরকে গরীব করে রাখেনি। বরং তার জীবনকে শিক্ষা বানিয়ে দিয়েছে। আর জাফরের প্রাসাদ তাকে চিরকাল ধনী রাখতে পারেনি। বরং এক কবরের সামনে এনে তাকে ভেঙে দিয়েছে, গড়ে দিয়েছে, বদলে দিয়েছে। মনে রাখবেন, অহংকার মানুষকে অন্ধ করে। আত্মীয়ের
হক নষ্ট করা ছোট গুনাহ নয়। গরীবকে অপমান [মিউজিক] করা আল্লাহর রহমতকে দূরে ঠেলে দেয়। আর কবর কবর হলো দুনিয়ার সবচেয়ে নীরব কিন্তু সবচেয়ে সত্যবাদী শিক্ষক। আজ আপনি যে ঘরে থাকেন, যে টাকায় গর্ভ করেন, যে নামযসে বুক ফুলিয়ে হাঁটেন, একদিন সবকিছু [মিউজিক] পেছনে পড়ে থাকবে। তখন জিজ্ঞেস করা হবে না আপনার ঘরে কত চাকর ছিল। জিজ্ঞেস করা হবে আপনার অন্তরে আল্লাহর ভয় কত ছিল। আপনি মানুষের সাথে কেমন আচরণ করেছেন? আপনি কার হক মেরেছেন? [মিউজিক] আর কার প্রতি অন্যায় করে নিজেকে বড় ভেবেছেন সাবিরের কবর থেকে জাফর যে শিক্ষা নিয়েছিল আমরা যদি তা জীবিত অবস্থায় নিতে পারি তাহলেই এই
গল্পের আসল উদ্দেশ্য পূরণ হবে গল্প থেকে শিক্ষা এই গল্প আমাদের শেখায় মানুষকে তার পোশাক ঘর দারিদ্র বা সম্পদ দিয়ে বিচার করো না কারণ আল্লাহর কাছে মর্যাদার মাপকাঠি ভিন্ন। গরীব মানুষকে ছোট করা, আত্মীয়তার সম্পর্ককে সম্পদের কাছে বিক্রি করা, মানুষের হক মেরে খাওয়া, এসব দুনিয়াতে না ধরা পড়লেও [মিউজিক] আখিরাতে ধরা পড়বেই। আর যে মুমিন সবর করে, হালাল পথে থাকে, মানুষের জন্য ভালো চায়, সে বাহ্যিকভাবে গরীব হলেও [মিউজিক] আল্লাহর কাছে ধনী। আজকের গল্পটি যদি আপনার হৃদয় স্পর্শ করে থাকে, তাহলে দেরি না করে এটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয় [মিউজিক] মানুষদের সাথে। হয়তো আপনার একটা শেয়ার কারো জীবনে আনতে পারে
হিদায়াতের [মিউজিক] আলো। চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকুন এবং বেল আইকনটি অন করে দিন যাতে এমন আরো গুরুত্বপূর্ণ গল্প আপনি মিস না করেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথের উপর অটল রাখুন এবং আমাদের আমলগুলো কবুল করুন। আমিন। [গান গাওয়া] জাযাকাল্লাহু [মিউজিক] খাইরান। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।